স্টাফ রিপোর্টার, উন্মোচনডটকম
দিনাজপুর: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা তোলা নিয়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এশিয়া এনার্জিকে সহায়তার নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি প্রত্যাহারের দাবিতে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকে দ্বিতীয় দিনের মত হরতাল চলছে।
উন্মুক্ত কয়লা খনির পক্ষে তৎপরতা বন্ধ এবং এশিয়া এনার্জিবিরোধী সমাবেশে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার দিনব্যাপী হরতালের পর বিকালে নিমতলা মোড়ে সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
শনিবারের মতো আজও হরতালকারীরা রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সকল দোকানপাট। শনিবারের হরতালে এশিয়া এনার্জির পক্ষে তত্পরতার কারনে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার কুশপুত্তলিকা দাহ করে ফুলবাড়ীর জনতা।
শুক্রবার বেলা তিনটায় ফুলবাড়ীর নিমতলা মোড়ে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসন কয়লাখনি ও আশপাশের এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। বিকেল পৌনে চারটার দিকে সমাবেশস্থলের পাশে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ফুলবাড়ীবাসী দেশের খনিজ সম্পদ রক্ষা করতে সমাবেশ ডেকেছিল। কিন্তু সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দিল। এর প্রতিবাদে আনু মুহাম্মদ শনিবার ফুলবাড়ীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং ২৮ নভেম্বর সারা দেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেন।
২০০৬ সালের ২৬ অগাস্ট ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল এবং উত্তোলনকারী কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে প্রত্যাহারের দাবিতে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির মিছিল-সমাবেশে গুলি চালায় পুলিশ। এতে নিহত হন আল আমিন, সালেকীন ও তরিকুল। এছাড়া আহত হন দুই শতাধিক।
ওই ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে চুক্তি করে পরিস্থিতি শান্ত করে। চুক্তিতে নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন না করার কথাও বলা হয়। ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলবাড়ীর জনগণের সঙ্গে সুর মিলিয়ে উন্মুক্ত কয়লা খনির বিরোধীতা করলেও ক্ষমতায় এসে এশিয়া এনার্জিকে সহায়তার কথা বলছে তার নেতৃত্বাধীন সরকার।
ওই সময় স্বাক্ষরিত ৬ দফা চুক্তির মধ্যে আরো ছিল- এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার, নিহতদের স্মরণে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ, গুলিবর্ষণকারীদের শাস্তি দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের সব মামলা প্রত্যাহার।
নিহত ও আহতদের কিছু ক্ষতিপূরণ ও মামলাও প্রত্যাহারের দাবি পূরণ হলেও অন্য দাবিগুলো পূরণ হয়নি।
উন্মোচনডটকম/টিআই/১২৫২ ঘণ্টা, ২৫ নভেম্বর, ২০১২



