চট্টগ্রাম: হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম দেওয়ান নগর এলাকার একটি ইট ভাটার জন্য নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল করে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পাহাড় কাটার দিয়ে মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে ইট ভাটায়। পাহাড় ও টিলা কাটার ফলে এ অঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে এক প্রভাবশালী ইটভাটার মালিক পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বুলডোজার দিয়ে পাহাড় ও টিলা কাটছে প্রতিদিন। পাহাড়ের এ সব মাটি ইট তৈরিসহ এলাকার জমি ও পুকুর ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন উন্মোচনডটকমকে জানান, দিন-রাত জুড়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা এসব মাটি বিক্রি করছে। এছাড়া এসব মাটি এনএন্ডবি নামের একটি ভাটায়ও পাচার করা হচ্ছে।
ওই সিন্ডিকেটটি এসব মাটি সরকারী জমি দখলকারী ভুমি দস্যুদের কাছে বিক্রি করছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। ভূমিদস্যু চক্র এসব মাটি দিয়ে রাতারাতি জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা ভরাট করে দখল করছে। সেখানে তারা দেয়াল তৈরির পর দোকানপাট ও ভবন নির্মাণ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে পৌরসভার পশ্চিম দেওয়ান নগর এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠা একটি ইটভাটায় পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা যায়।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী বন ও পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ইট ভাটা নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে এমন একটি এলাকায় ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার দৃশ্য রিতীমত রোমহর্ষক ব্যাপার।
গত কয়েক দিনে প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা ট্রাকে ট্রাকে মাটি এনে কৌশলে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের পাশে হাটহাজারী পৌরসভা এলাকার আব্বাইছাপুল, মীরহাট বড়ুয়া পাড়ার উত্তর পাশে, মুন্সীঘাটা ও উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া এলাকার প্রায় ১০টি অধিক স্পটে মাটি দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে দখল নিয়ে তা ভরাট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাহাড় কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রিক ফিল্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আমি মালিক নই, আমি ম্যানেজার।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি এই ব্যাপারে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।
পাহাড় কাটার ব্যাপারে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসে টিএনটি ফোনে ফোন করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উন্মোচনডটকম/হোসেন/মিফতা/১৪১১ ঘণ্টা, ২৮ জানুয়ারি ২০১৩



