মাহাবুবুল ইসলাম ইমন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোমস্তাপুর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র রহনপুর ও এর আশেপাশে রয়েছে অগণিত প্রাচীন (৬০০অব্দ-১২০০অব্দ) ও গৌড় সভ্যতার ঐতিহ্যের বেশ কিছু নিদর্শন ও স্থাপনা।
জনশ্রুতি আছে রাজা লক্ষণ সেনের আমলে রহনপুর বাণিজ্য নগরী হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাণিজ্যিক কারণে রহনপুরেই তিনি গড়ে তোলেন সুরম্য অট্টালিকা, যা বর্তমানে বিলীনের পথে। ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাত এই অট্টালিকাটির প্রকৃত নাম শাহ্বুরুজ। শাহ্ শব্দের অর্থ বাদশা আর বুরুজ শব্দের অর্থ অট্টালিকা বা বালাখানা। যা পরবর্তীতে লোকমুখে ষাঁড়বুরুজ নামে খ্যাতি লাভ করে। এ অট্টালিকার অদুরে গোলাকার গম্বুজ আকৃতির একটি ভবন আছে। লোক মুখে জানা যায় এটিই রাজা লক্ষণ সেনের বৈঠক খানা ছিল এবং এখানেই তিনি তার দরবার চালাতেন। বর্তমানে রাজা লক্ষন সেনের ঐতিহ্যমন্ডিত অট্টালিকাটি ভেঙ্গে মাটির ঢিঁবিতে রূপ লাভ করেছে। সরকারি প্রত্মতাত্ত্বিক দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় মূল ভগ্ন ভবনের চারপাশে বিভিন্ন বনজ গাছ লাগানো হলেও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রায় নষ্ট হতে বসেছে স্থাপনাটি। অবৈধ দখলদারীদের কারণে এর চারপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ি। দখলদারীরা পাহাড় রূপ এ অট্টালিকাটি খনন করে ইট, খোয়াসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। এ অট্টালিকাটির ভিতরে মূল্যবান মূর্তি ও বিভিন্ন প্রত্মসম্পদ আছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা চুরির চেষ্টা করে এমন আলামত পাওয়া যায়।
এলাকাবাসী জানায়, রাতে এখানে মাদকসেবীদের আসর বসে। এ অট্টালিকার নিকটের অধিবাসী আমিরুল ইসলাম জানান, গত ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বন, পরিবেশ ও প্রত্মতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি সরকারি অনুসন্ধান দল এখানে এসে পরিদর্শন করে গেলেও পরে আর কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা বেসরকারি তেমন কোন উদ্যোগও নেই স্থাপনাটি সংরক্ষণের। সরকারি বেতন ভাতায় একজন কর্মচারী গম্বুজ পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও প্রায়ই তাকে সেখানে দেখা যায়না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
বিতর্ক আছে, বাংলা বিজয়ী ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী এ পথে বাংলায় আগমন করেন এবং এ স্থানে কিছু সময় অবস্থান করেন। ইতিহাসে পরিচিত নদীয়া অঞ্চলটি এ স্থাপনাগুলির অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত। যা পরবর্তীতে নওদা নামে পরিচিতি লাভ করে। লোক মুখে শোনা যায়, বখতিয়ার খিলজির আগমনের সংবাদে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে রাজা লক্ষন সেন এ স্থান থেকে নদী পথে পলায়ন করেন।
বর্তমানে বিলীনের পথে এ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনটি সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বিজড়িত দর্শনীয় এবং পর্যটন স্থানে পরিণত হতে পারে। আবিস্কার হতে পারে আরও কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন। এলাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্থাপনাটি অবৈধ দখলমুক্ত করে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, প্রতিদিনই স্থানীয় ও বাইরের বেশ কিছু দর্শনার্থী স্থাপনাগুলি পরিদর্শন করেন।
উন্মোচনডটকম/ইমন/টিআই/১৮৩৭ ঘণ্টা, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৩



