জেলা প্রতিনিধি, উন্মোচনডটকম
মাদারীপুর: মাদারীপুরে পতিতালয়ে পাচার হওয়া এক তরুণীকে রবিবার দুপুরে উদ্ধার করেছে মাদারীপুর সদর থানা থানা পুলিশ। এসময় উত্তেজিত এলাকাবাসী পাচারের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
পুলিশ ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়,বেশকিছুদিন আগে মাদারীপুর পতিতালয়ের এক সরদারনীর কাছে বড়গুনার এক তরুণীকে বিক্রি করে দেয়া হয়। এর পর ঐ তরুনীর বাবা জানতে পারে তার মেয়েকে মাদারীপুর পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। এখবর শুনে ঐ তরুণীর বাবা মেয়ে নিতে মাদারীপুর পতিতালয় আসলে তাকে পতিতালয়ের সরদারনী মুক্তি ও তার লোকজন মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাটি শুনে তাকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মাদারীপুর জেলা শাখা, স্থানীয় সংগঠন এছলাহে কওম পরিষদ, পুলিশ ও মাদারীপুর মহিলা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। পরে সে ঘটনাটি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ ও মহিলা অধিদপ্তর, এছলাহে কওম পরিষদ, মানবাধিকার কর্মী ও মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের সহযোগীতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে ।
এঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা নারী পাচার বন্ধ ও এর সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তারা পতিতাদের বৈধ কর্মসংস্থানের ও আহবান জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইছলাহে কওম পরিষদের নেতা মুফতি জামাল উদ্দিন, গোলাম আজম ইরাদ প্রমুখ। এসময় উত্তেজিতরা পতিতালয়ে হামলা চালাতে গেলে ইছলাহে কওম নেতারা ও পুলিশ তাদের নিবৃত করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম আজম ইরাদ বলেন, মাদারীপুর পতিতালয়ে প্রতি মাসেই নারী পাচারের ঘটনা ঘটে।
মাদারীপুর মহিলা অধিদপ্তরে কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন মাদারীপুর শাখার সাধারন সম্পাদক এম.আর.মর্তূজা বলেন, ঘটনাটি শুনে আমরা পুলিশের সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর এএসপি সার্কেল শেখ রাসেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,পতিতালয়ে পাচার হওয়া এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কোর্টে প্রেরন করে দেয়া হবে। যদি মেয়েটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে তবে আমরা পাচারকারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবন্থা নেব।
এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
উন্মোচনডটকম/বেলাল/ইসলাম/১৬৫৭ ঘণ্টা, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩


