স্টকহোম প্রতিনিধি, উন্মোচনডটকম
স্টকহোম: স্টকহোমের Medborgarplatsen এ ঘন তুষারপাত এবং প্রচণ্ড হিমে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের সাথে একাত্ম হয়ে এক গণসংহতি জানিয়েছে সুইডেনবাসী বাঙালি।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ৩ টায় গণজমায়েতটি সংঘটিত হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এ গণজমায়েতে স্টকহোমবাসী ছাড়াও সুদূর গোথেনবারগ এবং উপসালা শহর থেকে দুই শতাধিক বাঙালি ছুটে আসেন।
ড. ফরহাদ আলী খান, শেখ তাসলিমা মুন, ড. বিপ্লব শাহনেওয়াজ, প্রবীর দাস এবং সোমা ঘোষ এর প্রধান আয়োজক ছিলেন।
এ সময় স্টকহোমের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এসে যোগদান করে তাদের সংহতি প্রকাশ করেন। গণজমায়েতের সমগ্র এলাকাটি জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। ব্যানার, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুনে চারপাশ বর্ণীল হয়ে ওঠে চারপাশ। লালসবুজের পতাকায় সমস্ত এলাকাটি এক অপূর্ব রূপ ধারণ করে। এ সময় স্থানীয় মিডিয়ার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ ছাড়াও ইউরোপের বাংলা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার উপস্থিত থাকে।
দুপুর ৩ টায় অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন ড. ফরহাদ আলী খান।
১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ বীর বীরাঙ্গনা এবং ২০১৩ সালে সর্বশেষ শহীদ ব্লগার রাজীব হায়দারের স্মৃতির উদ্দেশে ৩ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে শুরু হয় সুধীজনের সংহতি বক্তব্য প্রদান। গান, কবিতা আবৃতি এবং সমস্বরে কোরাস সঙ্গীতে এলাকাটি মুখর হয়ে ওঠে।
সংহতি বক্তব্য প্রদান করেন ড. ফরহাদ আলী খান, শেখ তাসলিমা মুন এবং ড. বিপ্লব শাহনেয়াজ।
আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা জনাব আখতার জামান। তিনি ইউরপিয়ান পারলামেন্টেরিয়ান Cecilia Wickström এবং Ismail Kamil সুইডিশ সংসদ সদস্য এবং Member of the Foreign Affairs Committee উভয়ই সুইডিশ Liberal Party, তাঁদের দুজনের এক লিখিত বার্তা পড়ে শোনান।
Cecilia Wickström এবং Ismail Kamil দুজনই এক লিখিত বার্তায় তাঁদের সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁরা দুজনই এক লিখিত বার্তায় এই মর্মে সংহতি প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তারুণ্যের যে জাগরণ তথা গণজাগরণ উত্তাল হয়েছে তারই সাথে সুইডেনে বসবাসরত বাঙালি সমাজ যে সংহতি সমাবেশের আয়োজন করেছে তার সাথে তারা একাত্ম এবং এই সমাবেশের তাঁরা সাফল্য কামনা করেন।
ইউরপিয়ান পার্লামেন্টেরিয়ান Cecilia Wickström এবং Ismail Kamil সুইডিশ সংসদ সদস্য এবং Member of the Foreign Affairs Committee এই লিখিত বার্তায় জানান যে বাংলাদেশের রাইট রয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের আইন অনুযায়ী আইনের আওতায় ন্য্যবিচারের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিচার করা। তাঁরা দুজনই মৃত্যুদণ্ড বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মৃত্যুদণ্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং সুইডেন সমর্থন না করলেও এ বিচারে বাংলাদেশের নিজস্ব আইন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।
তাঁরা বাংলাদেশ একটি সার্থক গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তাদের শুভেচ্ছা এবং এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাফল্য কামনা করেন।
আরও বক্তব্য রাখেন মাহবুব আরিফ, মৃদুল ভট্টাচার্য, আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মহিবুল ইয়াজদানি খান ডাবলু, নাহার মমতাজ, গোলাম আম্বিয়া ঝন্টু এবং লুতফর রহমান এবং আরও অনেকে।
নতুন প্রজন্ম থেকে সংহতি বক্তব্য প্রদান করেন প্রবীর দাস, আদনান, জোবাইদুল হক সবুজ।
সুইডেনে বসবাসরত প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে নতুন প্রজন্মের সাথে মিলিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের গুরত্ব এবং তাকে পুরুদ্ধারে নতুন প্রজন্মকে সার্বিক সহায়তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় মুহুর্মুহু জয়বাংলা শ্লোগানে সমগ্র প্রান্তর মুখরিত হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত শ্লোগান- ক তে কাদের মোল্যা- তুই রাজাকার, গ তে গোলাম আযম- তুই রাজাকার তুই রাজাকার, ন তে নিজামী তুই রাজাকার ইত্যাদি শ্লোগানে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
এ ছাড়াও তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা, ৭১ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার, ৭১ এর আলবদর এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, নতুন প্রজন্মের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে করি লালনা, রাজাকারের ফাঁসি চাই ফাসি চাই, ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনও দাবি নাই। অসংখ্যবার এই শ্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
এ সময় মোম বাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করা হয়। মুষ্ঠিবদ্ধ শপথে বজ্রকণ্ঠে পাঠ করা হয় রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ না গড়া পর্যন্ত আমাদের এ সংগ্রাম সংহতি অব্যাহত থাকবে।
এ সময় সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমে এবং লাইভ প্রগ্রামে শাহবাগের সাথে সংযোগ স্থাপন করে সুইডেনের সংহতি ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে ব্লগার রাজীব হায়দারের ছবিতে লাল গোলাপ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সব শেষে সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের সাথে অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানটির সমাপনী ঘোষণা করেন ড. ফরহাদ আলী খান। অনুষ্ঠানটির পরও মুহুর্মুহু জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখর থাকে এলাকাটি।
অনুষ্ঠানটির আয়োজকরা ঘোষণা করেন যে তারা শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের সাথে যোগাযোগ রেখে তাদের পরবর্তী প্রোগ্রাম ঘোষণা করবেন।
এছাড়াও আজকের অনুষ্ঠানের একটি স্মারকলিপি আগামীকাল দুপুর ১২ টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্টকহোমস্থ কার্যালয়ে মহামান্য রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রদান করবেন বলে জানান।
উন্মোচনডটকম/শেখ তাসলিমা/এএম১০২৮ ঘণ্টা, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩



