কাজী মনির হোসেন
সিনিয়র রিপোর্টার, উন্মোচনডটকম
ঢাকা: বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পথিকৃত ডাচ-বাংলা ব্যাংক। আর যে মানুষটি মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে দিন রাত খেটে চলেছেন তিনি ওই ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম মো. শিরিন। তিনি উন্মোচনডটকমের সাথে একান্ত এক সাক্ষাতকারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ভূত-ভবিষ্যত নিয়ে বলেছেন নানা কথা। সেইসঙ্গে ব্যাংকিংকে কীভাবে গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি হতদরিদ্র মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া যায় সে নিয়ে বলেছেন নানা পরিকল্পনার কথা। মৃদুভাষী এই মানুষটির কথা উন্মোচনের পাঠকের জন্য তুলে দেওয়া হলো-
উন্মোচনডটকম: বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং তো নতুন। ডাচ-বাংলা ব্যাংক তো এখানে পথিকৃতের ভূমিকা রাখছে..
আবুল কাশেম: মোবাইল ব্যাংকিং সারা পৃথিবীতেই একটা নতুন ধারণা। যেটা মোবাইলের মাধ্যমে ব্যাংকিং করা হয়। আমরা যেটা দেখেছি আসলে বাংলাদেশে মাত্র ২০ পারসেন্ট লোকের ব্যাংক একাউন্ট আছে। হয়্যার এজ ৬০ ভাগ লোকের মোবাইল ফোন আছে। তার মানে ২০ পারসেন্ট লোকের একাউন্ট আছে আর ৬০ ভাগ লোকের মোবাইল ফোন আছে। আমরা আরেকটা জিনিস স্টাডি করে দেখেছি যে আমাদের প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি ইউনিয়ন আছে। আমরা যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে শাখা সম্প্রসারণ করে গ্রামে ঢুকতে চাই, তাহলে প্রায় দুশ আড়াইশ বছর লেগে যাবে।
কারণ একটা ব্যাংক তো দশটা /১৫ টা বা ২০ টার বেশি ব্রাঞ্চ করতে পারে না। এই পরিমাণ লোকও পাওয়া যাবে না, এক্সপার্ট ম্যানপাওয়ারও নাই। প্লাস কন্টস্ট্রাকশন করতে হয়, ডেকোরেশন করতে হয়। সো ২০টি হলো ম্যাক্সিমাম। এখন আমরা যদি ইউনিয়ন পর্যায় ছাড়িয়ে গ্রামে ঢুকতে চাই, তাহলে প্রায় দুই আড়াইশ বছর সময় লেগে। যার জন্য ওই এ পয়েন্ট অব ভিউ থেকে ওই পর্যায়ে যাওয়ার জন্যই আসলে মোবাইল ব্যাংকিং।
আমরা সেখানে কোনও শাখা করব না। বাট আমাদের পক্ষ নিয়ে গ্রামের দোকানদাররা ব্যাংকিং করবে। তারাই কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা নেবে। এবং কাস্টমারকে টাকা দেবে।আমাদের পক্ষ থেকে। এদেরকে আমরা এজেন্ট বলি। এই ধরনের এজেন্ট আমাদের ধরেন ২২ হাজার আছে, সারা বাংলাদেশে। আর কাস্টমার আছে আমাদের প্রায় ১১ লাখ। এই যে সাড়ে ১১ লক্ষ কাস্টমার, আপনি দেখবেন, অনেক বড় বড় ব্যাংক আছে, বাংলাদেশে প্রায় ২০ বছর ৩০ বছর আগে থেকে ব্যাংকিং শুরু করেছে, তাদের কাস্টমার কিন্তু এক লাখ দেড় লাখের বেশি পৌঁছায় নাই। অথচ এক বছরের মাথায় আমাদের কাস্টমার ১১ লক্ষের মধ্যে পৌঁছে গেছে। আর এক বছরের মধ্যেই আমরা প্রত্যেকটা ইউনিয়নে পৌঁছে গেছি।
এই যে ধারণা এইটা হলো মানে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার এটাকেই বলে ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন। তো ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন শব্দটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই চালু হয়েছে।
তো মেইনলি এখানে সাকসেসফুল হয়েছে কেনিয়া। কেনিয়াতে সাফারিকম নামে একটা কোম্পানি তারা হলো একটা মোবাইল কোম্পানি, আমাদের দেশে গ্রামীণের মতো, তারা চালু করেছে প্রথমে। তারা এইটার নাম দিছে এমপইসা। এমপইসা বিকাম ভেরি সাকসেসফুল। তো তাদের সাকসেস হওয়ার পরপরই পৃথিবীর সবাই দেখল আরে..এটা তো ভালো একটা সুযোগ… এটা দেখে পৃথিবীর সবাই এগিয়ে আসতে থাকল..যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এগিয়ে আসছে..তারপর ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, তারপরে যেমন ধরুন ইউএনডিপি, এ ধরনের সংস্থা যারা আছে তারা এই মোবাইল কোম্পানির সাথে কাজ করতেছে।কারণ আমাদের ভাবনায় গ্রামাঞ্চল আছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আপনি যদি চিন্তা করেন ওই গ্রামের মানুষের অধিকার আছে..সেখানে একটি স্কুল করার। কাজেই স্কুল না হইলে গ্রামের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগটা থাকছে না। তাদের একটা অধিকার আছে ওই এলাকায় একটা রোড করা..রোডটা কানেকটিং টু দ্য সিটি..তাদের অধিকার আছে একটা পোস্টাপিস, তাদের অধিকার আছে একটা হসপিটাল। সিমিলারলি ব্যাংকিংও তাদের একটা অধিকার।
এটা কিন্তু তাদের একটা ফান্ডামেন্টাল রাইটস। সিটিজেন্স রাইটস। কেন? আজকে দেখেন গ্রামের লোকদের কিন্তু আগে কৃষিনির্ভরতা ছিল। এখন কিন্তু মানুষ কৃষি থেকে সরে আস্তে আস্তে শহরের দিকে এসে কাজ করতেছে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেছে। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেছে। তারপর কিছু লোক বাহিরেও আছে। তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছে। ঢাকা থেকে টাকা পাঠাচ্ছে। বিভিন্ন শহর থেকে টাকা পাঠাচ্ছে গ্রামে..আবার বিদেশ থেকেও টাকা পাঠাচ্ছে। একবার টাকা পাঠাতে গ্রামের লোককে প্রায় ৩০/৪০ কিমি দূরে ব্যাংকে যেতে হয়, গিয়ে সেখান থেকে তাকে টাকা উঠাতে হয়।এখানে তার একটা খরচ আছে। আসা যাওয়ার একটা খরচ আছে। প্লাস পুরো টাকাটা উঠিয়ে নিয়ে গ্রামের ঘরের ভিতর রাখবে কিনা, সেখানে একটা রিস্ক আছে।
এখন যদি সে ঘরের ভিতর থেকেই সে টাকাটা তার গ্রামের দোকানদারের কাছ থেকে পেয়ে যায়, তার সব টাকা দরকার নেই। আমার ২০ হাজার টাকা আসছে..আমার আজকে ৫ হাজার টাকা দরকার, এই ৫ হাজার টাকা উঠালাম। তারপরে ৭ দিন পরে আরও ৫ হাজার দরকার, ৭ দিন পরে আবার উঠালাম।
এইটুকু যদি সুবিধা সে পায়, এইটা কিন্তু তার ফান্ডামেন্টাল রাইটস। তাছাড়া একটা কৃষক সে চার মাস জমি চাষ বাস করে ফসল পাবে..সে ফসলটা বেচে যে টাকাটা পাচ্ছে..এই টাকাটা কোথায় রাখতেছে..ঘরের ভিতর রাখতেছে..এই টাকাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অথচ সে যদি এই টাকাটা ব্যাংকে রাখতে পারে..এটা থেকে সে ইন্টারেস্ট পাবে, টাকাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে..প্লাস নিরাপত্তাও পাচ্ছে। আবার দরকার পড়লে উঠাতে পারবে। এসব কারণে আমরা মনে করি ব্যাংকিংটা সিটিজেন রাইটস। আমরা না শুধু সারা ওয়ার্ল্ডের সবাই মনে করে। এইজন্যই ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন একটা ড্রাইভ।এটা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নেওয়া হয়েছে। সেটারই অংশীদারিত্ব হিসাবে বাংলাদেশে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং চালু করেছি, ৩১ শে মার্চ ২০১১ সালে।
তো, আমরা মোটামুটি সাকসেসফুল হয়ে গেছি। বেশ সাকসেসফুল হয়েছি।
উন্মোচনডটকম: বাংলাদেশে বিকাশও তো মোবাইল ব্যাংকিং করছে। তাদের সাথে আপনাদের কোনও পার্থক্য আছে কি?
আবুল কাশেম: আমাদের সাথে বিকাশের একটা পার্থক্য আছে। বিকাশ আমাদের পরে শুরু করেছে। পরে শুরু করলেও তাদের সাথে আমাদের একটা পার্থক্য রয়ে গেছে। সে পার্থক্যটা হলো বিকাশ মেইনলি টাকা পাঠানো নিয়ে ব্যস্ত। তারা চায় যে টাকা পাঠানো…এখান থেকে ওখানে টাকা পাঠানো। অনেকটা দে আর কম্পিটিটর টু পোস্ট অফিস। বা কুরিয়ার সার্ভিস। আমরা কিন্তু তাদের কম্পিটিটর না। আমি মনে করছি দ্যাট ইজ নট মাই জব। আমার জব হলো ব্যাংকিং। বিকাশে একাউন্টও খুলতে হয় না। একাউন্ট ছাড়াই তারা টাকা পাঠায়।
তবে আমি মনে করতেছি যে আমাদের এটা যেহেতু ব্যাংকিং, তাই আমাদের উচিত হবে ব্যাংকিং করা। আমাদের জনগণ যখন রেমিটেন্স আসতেছে সে সেটা পাবে..থ্রু প্রপার চ্যানেলে, তার ধান বিক্রি করে যা সে পেয়েছে সেটা সে জমা রাখবে। সে একটা এফডিআর করবে সে একটা ডিপিএস করবে। মাসে মাসে একশ’ টাকা করে জমা দেবে। তার মেয়েটা বড় হলে টাকা উঠিয়ে বিয়ে দেবে। ছেলে বড় হলে তাকে পড়াবে। আমরা ব্যাংকিংয়ের মধ্যেই থাকতে চাই। এটাই হলো মূল পার্থক্য, আমাদের সাথে বিকাশের।
উন্মোচনডটকম: ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তি প্রগ্রাম নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
আবুল কাশেম: আমাদের আসলে ডাচ -বাংলা ব্যাংকের দুটো সাইড বেশ স্ট্রং। যেটা নিয়ে আমরা সব সময় গর্ব করি। এর একটা হলো আমাদের সোশ্যাল কর্পোরেট রেসপন্সিবিলিটি এবং আরেকটা আমাদের আইটি সেক্টর। দুই জায়গাতেই আমরা ভেরি স্ট্রং। বাংলাদেশের আর কোনও ব্যাংক আমাদের ধারে কাছেও নেই।
যেমন ধরুন, একটা এক্সাম্পল হিসেবে বলি, এটিএম বুথের সংখ্যা সারা বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫০০। তার ভিতরে ২ হাজার ৫০০ই ডাচ-বাংলার। আর ১০০০টা হলো বাকি ৪৭ টা ব্যাংকের। তাহলে বোঝেন, কত পার্থক্য। আমাদের সেকেন্ড হায়েস্ট মানে আমাদের কাছাকাছি যারা আছে তাদের এটিএম বুথের সংখ্যা যেখানে আড়াইশ, সেখানে আমাদের ২৫০০। তো এই হলো একটা বড় পার্থক্য। এইজন্য আইটিতে আমরা এগিয়ে আছি। মোবাইল ব্যাংকিংয়েও আমরা এগিয়ে আছি। সবকিছুতেই আমরা এগিয়ে আছি। মানে আইটি রিলেটেড সবকিছুতেই আমরা এগিয়ে আছি..সিএসআরেও আমরা এগিয়ে আছি। সিএসআর বাংলাদেশে শুরুই করেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক।
প্রায় দুই বছর আগে আমাদের বোর্ড ডিসিশন নিয়েছে ব্যাংক থেকে তারা কোনো প্রফিট নেবে না। পুরো প্রফিটের টাকাটাই তারা জনকল্যাণে ব্যয় করবে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত দুই বছর ধরে আমরা ১০২ কোটি টাকা স্কলারশিপ দিচ্ছি। ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এ স্কলারশিপ পাবে। মানে ৩০ হাজার ছাত্র প্রতি বছর ১০২ কোটি টাকা স্কলারশিপ পাবে। যদিও আমরা এখনও ওই পর্যায়ে যাইতে পারি নাই, কারণ আমরা শুরু করছি দুই বছর আগে। আমরা এএসসি এবং এইচএসসি মিলিয়ে গত বছর ৫ হাজার ছাত্রকে স্কলারশিপ দিয়েছি। এ বছর আরও পাঁচ হাজার ছাত্র এড হবে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাত্রকে এ স্কলারশিপ দিচ্ছি। তৃতীয় বছর এ স্কলারশিপ পাবে ১৫ হাজার, চতুর্থ বছরে তা হবে ২০ হাজার। এভাবে ছয় বছর পর এটা ৩০ হাজার হবে। তখন দেখা যাবে বৃত্তিপাপ্ত কিছু ছেলে পড়বে ইউনিভার্সটির ফোর্থ ইয়ারে, কিছু ছেলে থার্ড ইয়ারে..কিছু ছেলে সেকেন্ড ইয়ার, কিছু ফার্স্ট ইয়ার, ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ার, কিছু ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট ইয়ার। তখন ৬টা লেভেলে পাঁচ ছয় ত্রিশ হাজার ছাত্রের জন্য পুরো ১০২ কোটি টাকা খরচ হবে। এইটা আমাদের একটা প্ল্যান আছে।
উন্মোচনডটকম: সমাজে এই বৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে যদি বলতেন
আবুল কাশেম: আমাদের এই প্রগ্রামটা বেশ আগে থেকেই ছিল। তবে এত ব্যাপকভাবে ছিল না। আমাদের স্কলারশিপ পেয়ে অনেকেই ডাক্তার হয়ে গেছেন, অনেকেই ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন, অনেক কৃষিবিদ হয়েছেন, অনেক বিজনেস এক্সপার্ট হয়েছেন। এছাড়া অলিরেডি প্রায় মোর দ্যান ওয়ান থাউজেন্ড গ্রাজুয়েট পাশ করে ফেলেছে। আর আমরা যাকে স্কলারশিপ দেই, ম্যাট্রিক পাশ করার পর, তাকে আমরা কন্টিনিউ করি একবারে পিএইচডি পর্যন্ত। সে যদি পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে। আমরা একবার স্কলারশিপ দিলে আমরা তা চালিয়ে যাই সারা জীবনের জন্য।এভাবে অনেক আগ থেকেই আমরা বৃত্তি দিয়ে আসতাম, তখন কম দিতাম। এখন এটাকে আমরা অনেক বড় করে ফেলেছি। তো, স্কলারশিপের পরিপ্রিক্ষিতে কিন্তু অনেক দরিদ্র ছেলে মেয়ে উপকৃত হয়েছে। আমাদের এই স্কলারশিপ পাওয়ার মূল ক্রাইটেরিয়া কিন্তু দারিদ্র্য। রেজাল্ট টেজাল্ট না। মেইন ক্রাইটেরিয়া হলো গরিব। তারপর সেকেন্ড ক্রাইটেরিয়া হলো রেজাল্ট। আমরা যেমন বলে দেই ৪.২ জিপিএ পেতে হবে। তো, ৪.২ এর ভিতর গত বছর যেমন ১৭ হাজার আবেদন পেয়েছি। তো এই ১৭ হাজার থেকে আমরা দিয়েছি মাত্র ৩ হাজারকে। এই তিন হাজারের ভিতরেও যারা হায়েস্ট রেজাল্টধারী তাদেরকে কিন্তু দেইনি। পরিবারকে অসচ্ছল থাকতে হবে। ফ্যামেলি ব্যাকগ্রাউন্ড দেখি। এদের মধ্যে দেখা যায়, অনেকেই রিকশাওয়ালার সন্তান আছে, কেউ কাজের বুয়া আছে। অনেক ভিক্ষুকের ছেলেমেয়ে দেখছি আমরা, যে মেট্রিক পাশ করেছে। তারপরে গার্মেন্টেসে কাজ করে, এই ধরনের অত্যন্ত গরিব, মানে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের অনেক হত দরিদ্র বাবা মার ছেলে আছে যারা বহু কষ্ট করে লেখাপড়া করে, এমনকি এদের অনেকেই আছে নিজে রিকশা চালিয়ে আর্ন করে পড়াশোনা করে। যেহেতু এখন আমরা বেশি পিটিশন পাই, কিছু সচ্ছল ছেলেমেয়েরাও আসতেছে। সচ্ছল মানে ধরেন বাবা কেরাণী, বা ধরেন আর্মির সৈনিক বা পুলিশের কনস্টেবল, আগে যাদের আমরা পেতাম না। এদের আমরা এখন কিছু কিছু পাচ্ছি। তারপরও ধরেন যারা সরকারি চাকরি করে, ব্যাংকে চাকরি করে..কোনোভাবেই তাদের সন্তানদেরকে আমরা দেই না। বিশেষ করে যারা অফিসার র্যাংকে আছে। এমনকি হেড মাস্টার, প্রিন্সিপাল, কলেজে চাকরি করেন..তাদের ছেলেমেয়েদের আমরা এ বৃত্তি দেই না।
আমরা একদম গরিব যারা তাদেরকেই দেই। তো তার সংখ্যাই কম না, তিন হাজার।
উন্মোচনডটকম: ব্যাংকিং পেশায় আপনার অর্জন…
আবুল কাশেম: আমার তো আসলে ব্যক্তিগত অর্জন বলে কিছুই নেই। এখানে সব সম্মিলিতভাবেই করা হয়। মানে এটার একটা বোর্ড আছে। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেয় তা সম্মিলিতভাবেই সব কিছু করা হয়। আর বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া তো আমার কিছু করা সম্ভবই না। তারপরও আমরা যেটা করেছি যে সেটা হলো বেসিক্যালি যেটা ধরেন আমি এই জবটা যখন শুরু করি প্রথম আইটিতে জয়েন করি এবং আমার হাতে ধরেই আইটি পরিচালিত হয়েছে। আইটি থেকে ডেভেলপ করে আস্তে আস্তে এটিএম সেন্টার করেছি। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ই-কমার্স, কার্ড করেছি, ক্রেডিট কার্ড করেছি..এইসব আস্তে আস্তে করে অনলাইন ব্যাংকিং করেছি। এগুলো আমার তত্বাবধানে হয়েছে। এখন মোবাইল ব্যাংকিং যেটা সেটাও আমার তত্ত্বাবধানেই আছে। আমার নিজের জন্য যদি বলতে হয়, তবে আমি স্বপ্ন দেখেছি। আমি বাইরে পড়াশোনা করেছি, পড়াশোনা শেষে আমি দেশে আসছি..দেশে এসে দেখেছি যে এখানে লম্বা লাইন ধরে লোকজন সোনালী ব্যাংকে টাকা উঠাচ্ছে, যেটা বিদেশে চিন্তাই করা যায় না। আমি দেশে একবারই ব্যাংকে একাউন্ট খুলেছি, আর দেশে ফেরার পর একাউন্টটি ক্লোজ করে আসছি। মধ্যে আমাকে কখনও ব্যাংকে যেতে হয় নাই। আমি এটিএম থেকে টাকা উঠাইছি। তো, এই স্বপ্নটাই ছিল যে দেশে গিয়ে যেন এমন একটা সার্ভিস দেওয়া যায় যাতে মানুষ ২৪ ঘণ্টা টাকা উঠাতে পারে। তাকে যেন তিনটা বাজলেই যেন চিন্তা করতে না হয় তিনটা বেজে গেছে, যে আমাকে টাকা না উঠালে কালকে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে। বাজার করতে পারব না। আমি কক্সবাজার যাব, আমার যেন ব্যাগভর্তি করে টাকা নিতে না হয়। আমি যেন কক্সবাজারে গিয়েই টাকা তুলতে পারি। এইসব সুবিধা মানুষকে কীভাবে দেয়া যায়, সেটা আমার একটা স্বপ্ন ছিল সেই স্বপ্নটা ডাচ-বাংলার সৌজন্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।
পরবর্তীতে একটা স্বপ্ন আছে, সেটা হলো অনলাইন ব্যাংকিং টোয়েন্টিফোর আওয়ার্স ব্যাংকিংয়ের সুযোগ সুবিধা দিতে পারে, গ্রামের মানুষের কথা চিন্তা করতে করতেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিষয়টা মাথায় এসে গেল। আরেকটা ব্যাপার আছে যে সেটা হলো যে এখনও দেখা গেছে ৪০ ভাগ মানুষের হাতে মোবাইল নেই। আর ওই ৪০ ভাগ লোকই কিন্তু সরকারের বিভিন্ন ভাতা পায়, তাদের জন্য কী করা যায়। তাদের জন্য আমাদের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলতেছে স্বপ্ন আছে..তাদের জন্য একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি..এই প্রজেক্টটা বাস্তবায়িত হলে ৪০ ভাগ লোক যাদের মোবাইল নেই, তাদেরকেও আমরা এই ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে পারব। তাদেরকে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে প্রত্যেকের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপের একটা ডিভাইস দিব। প্রত্যেক দোকানে দোকানে। সেখানে ওগুলি দিয়ে হাতের ছাপ দিয়ে অপারেট করে সে টাকা উঠাতে পারবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে আপনি যে টাকার মালিক তার প্রমাণ আপনার সাইন, এটিএমের ক্ষেত্রে পিন নম্বরই মালিক, মোবাইলের ক্ষেত্রে পিন নম্বর আছে, আর যাদের মোবাইল নেই এটিএম নেই তাদের কী আছে..তাদের আছে আঙ্গুল, আঙ্গুলের ছাপই তাদের টাকার মালিক। একদিন আঙ্গুলই হবে তাদের মোবাইল।
উন্মোচনডটকম: আপনাকে ধন্যবাদ
আবুল কাশেম: আপনাকেও।



