স্টকহোম প্রতিনিধি, উন্মোচনডটকম
স্টকহোম: সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশ পণ্ড করে দিয়েছে স্টকহোমের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সম্মিলিত প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ।
তারা গত ১ মার্চ ওই সমাবেশ ভণ্ডুল করে নিজেরা সমাবেশ করে।
গণজাগরণ মঞ্চ-সুইডেনের ব্যানারে জামাত-শিবিরের সমাবেশে অবস্থান সমাবেশের আয়োজন করে তারা।
হিমাংকের নিচে তাপমাত্রাকে চ্যালেঞ্জ করে স্টকহোমবাসী মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে দলে দলে এই সমাবেশে সমবেত হন।
তারা জামাত শিবিরের এই অপপ্রচার প্রপাগান্ডা সমাবেশের সামনে অবস্থান করে শান্তিপূর্ণ এক অভূতপূর্ব অবস্থান সমাবেশ করে।
তারা জাতীয় সঙ্গীতের সুরে চত্বরটিকে মুখর করে তোলে। দেশমাতৃকার প্রতি এক অভূতপূর্ব সম্মান প্রদর্শনে এক আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এ সময় মুহুর্মুহু জয়বাংলা ধ্বনি দিয়ে উপস্থিত জনতা জামাত শিবিরের নেতা-কর্মীদের ভীত করে তোলে।
জামাত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত পুলিশের কাছে এ সময় সমাবেশের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েও সমাবেশটির শান্তিপূর্ণ অবস্থানের বিরুদ্ধে কিছু করতে সক্ষম হয়নি।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এ সময় অনেকের হাত এবং পা জমে উঠলে অনেকেই বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা এর থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করে আমাদের দেশটি স্বাধীন করে গেছেন। তাঁদের কাছে আমাদের কষ্ট খুবই নগণ্য।
এ সময় আবারও জয়বাংলা ধ্বনিতে চারপাশ আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। বক্তৃতা গানের মাঝে মাঝে ক্ষণে ক্ষণে সম্মিলিত জনতা জয়বাংলা শ্লোগানে ফেটে পড়েন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চৌধুরী হারুন উর রশিদ, ড. ফরহাদ আলী খান, মৃদুল ভট্টাচার্য, ড. বিপ্লব শাহনেওয়াজ, নীলা চৌধুরী, আরিফ মাহবুব, জনাব দেলোয়ার হোসেন, সুজাউল ইসলাম মিজানুর রহমান, তাপসী ভট্টাচার্য, তরুণ কান্তি চৌধুরী, শিল্পী চৌধুরী, নীলা চৌধুরী, যোবাইদুল হক সবুজ, শেখ তাসলিমা মুন।
নীলা চৌধুরী একজন শহীদ সন্তান এবং একুশে আগস্টের নৃশংস গ্রেনেড হামলার শিকার এক সংগ্রামী মানুষ।
তিনি তাঁর বাবার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া, তাঁর মায়ের সংগ্রাম এবং বেড়ে ওঠার নিদারুণ বেদনার ইতিহাস তুলে ধরেন।
তিনি শহীদ সন্তান হিসেবে তাঁর বাবার হত্যার বিচার চান। এ সময় তিনি সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি দাবি করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পী চৌধুরী। শিল্পী চৌধুরী যিনি শহীদ নিতাই সিংহের দৌহিত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে তাঁর দাদুর হত্যাকারী সা কা চৌধুরী এবং তার বাবা ফ কা চৌধুরীর নৃশংসতাকে তুলে ধরে তাঁর দাদুর হত্যাকারিদের ফাঁসি দাবি করেন।
বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত স্থানীয় সুইডিশ রাজনীতিক চৌধুরী হারুন উর রশিদ বলেন, আজকের এ সমাবেশ ইতিহাসে স্থান পেলো এবং আরও একবার জামাত শিবির এবং যুদ্ধাপরাধীদের নেতিবাচক ঘৃণ্য নীতির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জয় লাভ করলো।
সমাবেশের সব বক্তাই জামাতের তাণ্ডব এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নেমে আসা অবর্ণনীয় হামলার নিন্দা করেন।
তাঁরা অনতিবিলম্বে এই দুষ্কৃতকারীদের আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান।
উপস্থিত সমাবেশ দেলাওয়ার হোসাইন সাইদির ফাঁসির রায়ে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল সহ সমগ্র জনগণের প্রতি আনন্দ ও অভিনন্দন ব্যক্ত করেন।
এ সময় তাঁরা ভাষা শহীদের স্মরণে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটি পরিবেশন করেন।
সমাবেশে সমাপনী ভাষণ দেন ড. ফরহাদ আলী খান। তার আগে শপথ পাঠ করান মৃদুল ভট্টাচার্য।
ড. ফরহাদ আলী খান তাঁর সমাপণী ভাষণে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এ সময় কিছু জামাত শিবির তাদের সমাবেশ থেকে বের হলে, সুইডেনের মাটিতে রাজাকারের ঠাঁই নাই, বাংলার মাটিতে জামাত শিবিরের ঠাঁই নাই হুঁশিয়ার সাবধান রাজাকারের দোসররা হুঁশিয়ার সাবধান স্লোগানে এলাকাটি প্রকম্পিত করে তোলে।
ড. ফরহাদ বলেন, প্রিয় স্বদেশ থেকে বহুদূরে আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে যে দেশটিতে বসবাস করি সেখানে এই হায়েনাদের রাজনীতির ডালপালা আমরা সহ্য করবো না! যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর কোনও প্রপাগান্ডা আমরা সহ্য করবো না! কোনও নেতিবাচক অন্ধকার রাজনীতি প্রিয় স্বদেশে যেমন সইবো না, সইবো না তেমনই আমাদের বসবাসকৃত দেশটিতেও! যাদের ঘৃণ্য কার্যকলাপ এবং অর্থায়নেই আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে জামাত শিবিররা চালায় তাণ্ডব! আমরা যে কোনও মূল্যে তা প্রতিহত করবো। জয়বাংলা! জয় বাংলার জনতার!
উন্মোচনডটকম/প্রতিনিধি/কেএম/১১০০ ঘণ্টা, ০৩ মার্চ, ২০১৩



