ডা. আহমেদ মঈন •
১. দুর্নীতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মাঝে কোনও পার্থক্য নেই।
২। দলীয়করণের ক্ষেত্রে দুদলই একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
৩। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দুই দলই যে কোনও ধরনের পন্থারই আশ্রয় নেয়।
৪। আওয়ামী আমলে রাজনৈতিক গুম হত্যা বাড়ে।
৫। বিএনপি জামাত শিবির ও বিভিন্ন ধর্মীয় দল নিয়ে রাজনৈতিক জোট করে।
৬। আওয়ামী লীগ ছোট ছোট বাম দলগুলো নিয়ে জোট করে।
দু’দলের ভেতর পার্থক্য আরও অনেক। সমস্ত আলোচনা না করে শুধু মাত্র উপরের ৬ টি পয়েন্ট নিয়ে যদি আলোচনা করা যায় তবে নিঃসন্দেহে আওয়ামীলিগ ভাল অবস্থানে আছে, আর এই ভাল অবস্থানে থাকার কারন হচ্ছে উপরের ৬ টি ভেতর মাত্র একমাত্র শুধু মাত্র ৫নং ইস্যু।
বিএনপির রাজনীতিতে মহা ভুল জামাত শিবিরের সাথে জোট করা। কোনও কারণেই বিএনপির জামাতকে সাথে নেওয়া উচিৎ ছিল না। এরা এক সময় বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর জন্য আঅয়ামী লীগের সাথে জোট করে সমস্ত দেশকে অচল করে দিয়ে বিএনপির পতন ঘটিয়েছিল। তার অর্থ এই নয় এরা সেটা পেড়েছিল বা এদের সে ক্ষমতা ছিল। সেটা পেড়েছিল কারণ তখন আওয়ামী লীগের সাথে তারা রাজপথে নেমেছিল। পরবর্তিতে জামাত যখন আওয়ামী লীগের জোট থেকে বেরিয়ে আসল তখন বিএনপি এদের সাথে না নিলেও তাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই তারা বিএনপিকে আঁকড়ে থাকত। ধরা যাক জামাত শিবিরের দলকে নিষিদ্ধ করা হল। সে ক্ষেত্রে তারা কাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে চাইত। নিশ্চয় আওয়ামী লীগকে নয়। যে জামাতের সাত্থে তাদের ঐক্যের দরকার ছিল না আজ বিনএপির নীতি নির্ধারণী ভাষণে জামাত শিবিরের প্রতি তার সমর্থনে বৃহৎ একটি দল হিসেবে সে সরাসরি মুখোমুখি দাঁড়াল রাজাকারদের সপক্ষে, প্রগতির বিপক্ষে, নতুন গণজোয়ারের বিপক্ষে। একটি কার্টূনের কথা মনে হচ্ছে। খালেদা জিয়ার মাথায় একটি সাপের ঝুড়ি, এখন ঝুড়িটি থেকে সাপগুলো মাথা নামিয়ে এমন ভাবে ফণা তুলে আছে যে ঝাপিটি মাথা থেকে নামাতে গেলেই ছোবল খেতে হবে।
আওয়ামী লীগ তার শাসনামলে জনগণের নিকট এত অপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও শুধু মাত্র একটি কারণে সে তার ক্ষমতাকে সুসংহত করে পরবর্তি নির্বাচলে ক্ষমতায় এসে যাবে বা জনগণ আওয়ামী লীগকেই সমর্থন করবে। কারণ সুস্পষ্ট – দুটি বৃহৎ দলের মধ্যে আওয়ামী লীগেরই নির্বাচনী অঙ্গীকার যুদ্ধাপরাধের বিচার। আর এই ইস্যুটি জনগণের নিকট কতটা গভীরের চাওয়া সেটা শাহবাগের গণজমায়াতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে এবং আরও যে গুরুত্বপুর্ন ইস্যুটি প্রমাণিত হয়েছে সেটা হল -বাংলাদেশের জনগণ ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির কতটা বিরোধী। এদেশের জনগণ ধর্মাপরায়ণ অবশ্যই, যেটা দেখা যায় মসজিদে বিশেষ করে শুক্রবারে দেশের সমস্ত মসজিদে উপচেপড়া ভিড়ে। বিএনপির দেখার ভুল -এই ভীড় মৌদুদী পন্থিদের ডাকা ভীড় নয়, এই ভীড় জাতীয় কবি, সাম্যের কবি নজরুলের ডাকা তৌহিদি জনতার মসজিদের ভীড়।
নজরুলের সেই তৌহিদি জনতা জামাতে নেই, বিএনপিতে নেই, আওয়ামী লীগেও নেই। তবু এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ছাড়া মানুষের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই।
লেখক: চিকিৎসক ও কলামিস্ট
মুক্তমঞ্চে প্রকাশিত লেখা/মতামতের দৃষ্টিভঙ্গী সংশ্লিষ্ট লেখকের নিজস্ব; এর সাথে উন্মোচনডটকমের দৃষ্টিভঙ্গী বা নীতিমালার মিল না-ও থাকতে পারে। মুক্তমঞ্চে লেখার ঠিকানা: muktomoncho.unmochon@gmail.com



