Tuesday, Apr 2nd, 2013 at 3:24pm BdST
প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ

সবাই শেখ হাসিনার পোষা বাঁদর না

সবাই শেখ হাসিনার পোষা বাঁদর না

রাসেল পারভেজ

শাহবাগের সবাই শেখ হাসিনার পোষা বাঁদর না, বরং নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট দাবি নিয়ে তারা শাহবাগের স্লোগানে গলা মিলিয়েছিলো, তাদের প্রত্যেকের যুদ্ধাপরাধের কলংক মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন ছিলো।

৬ দফায় বিভক্ত হলেও আসলে মূল দাবি তো সেই একটাই, এই দেশে যুদ্ধাপরাধীদের শেকড় বিস্তারের যতগুলো পদ্ধতি আছে সবগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রগুলোতে যুদ্ধাপরাধ বিরোধী চেতনা জাগ্রত করে এদের স্পষ্ট নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

দাঁড়ের পোষা ময়না ইমরান যতদিন ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলায় জামায়াতের বিরুদ্ধে শপথ পাঠ করাচ্ছিলো, যখন তারা জামায়াতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছিলো, যখন কুঁততে কুঁততে বলছিলো জামায়াতকে ২৬শে মার্চের আগে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, শেখ হাসিনা আনন্দিত ছিলেন। ভোট বাক্সে ভোট ঢুকছে আর ঢুকছে, স্রোতের মতো যুদ্ধাপরাধ সচেতন মানুষেরা নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে ফেলছেন, আনন্দে মাতোয়ারা শেখ হাসিনা শাহবাগের সোনার ছেলেদের কোলে তুলে গালে চুমু দিয়ে নায়কের মতো বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন।

রাজনীতি রোলার কোস্টার রাইড, তীব্র উত্তেজনার সাথে পতনের ভীতিও তৈরি হয়। আর সে পতনের ভীতিটুকু স্পষ্ট সামনে আনলো আমার দেশ, শাহবাগ নাস্তিক আর সেই থেকে ধার্মিক হয়ে ওঠার পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলো শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ, সে পরীক্ষা এখনও সমাপ্ত হয় নি।

শাহবাগের উদ্বোধনে ভীত তিনটি রাজনৈতিক দল আর উত্তর পাড়া মিলে মিশে হেফাজতে ইসলামী তৈরি করেছিলো গণজাগরণের শুরুর সময়েই। সে সময়েই তারা নাস্তিকতার কার্ড ফেলেছিলো কিন্তু শাহবাগ জাগরণের প্রচারণায় ব্যতিব্যস্ত মিডিয়া সে সময়ে এই নাস্তিক কার্ড উপেক্ষা করে গেলো।
এখন ব্লগারেরা খারাপ, তারা নাস্তিক, তাদের গণতওবা করতে হবে, গুছিয়ে এক দল নাস্তিকের তালিকাও তৈরি করা হলো। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ঘৃণা ছড়ানোর স্বাধীনতার ভেতরে পার্থক্য আছে, পরিমাণ বিবেচনায় শেখ হাসিনার বর্তমান মিত্র কিংবা রাজনৈতিক বন্ধু হেফাজতে ইসলামীর ঘৃণা ছড়ানোর পরিমাণ শাহবাগে উপস্থিত কতিপয় ব্লগারের ব্যক্তিগত ব্লগে ছড়ানো ঘৃণার চেয়ে অনেক বেশি।

তারা প্রকাশ্য জনসভায়, ওয়াজ মেহফিলে ঘৃণা ছড়িয়েছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি দিয়েছে, আজ শেখ হাসিনা তাদের সাথে পাশাপাশি বসে তাদের প্লেটে ভাত তুলে দিয়ে বাক স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

ভালো লাগলো তার এই গণতওবার প্রস্তাব, কিন্তু ৮৪ জনের ভেতরে থাকা জনা ১৫ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর কী হবে, তারা কি তওবা করে মুসলমান হয়ে যাবে? রাষ্ট্র ধর্ম অবমাননার বিষয়ে শেখ হাসিনার দৃঢ় ইমানী ডাণ্ডা কি এইসব লোকের ধর্মান্তকরণের কারণ হবে?

শেখ হাসিনার এই আস্তিকতা প্রসঙ্গে আমাদের দলীয় বুদ্ধিজীবীদের মতামত কি? তারা তো সেক্যুলার নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বেচতে চান, এখন ভোটের অংক কষে তসবিহ হাতে নিয়ে হিজাবের আড়ালে লুকানো সেক্যুলার হাসিনা বিষয়ে তাদের স্পষ্ট কোনো মন্তব্য চোখে পড়লো না।

ফেসবুক মন্তব্য

টি মন্তব্য

Place Your Advertisement Here!
Close